সড়ক কর নিয়ে বিভ্রান্ত গাড়ি মালিকরা

জলপাইগুড়ি: একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, বেসরকারি বাস মালিকদের সড়ক কর দিতে হবে না, অন্যদিকে পরিবহণ দপ্তর চিঠি পাঠিয়ে ওই কর চাইছে। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। জলপাইগুড়ির বাস মালিকদের তরফে নর্থ বেঙ্গল মোটর ট্রান্সপোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক বিমল গুহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবহণ দপ্তরের চিঠিতে আমরা হতাশ। করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে এমনিতেই অনেকের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাঁরা কীভাবে ৪-৫ হাজার টাকা কর দেবেন, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। এ বিষয়ে জানতে জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের অধিকর্তা পালদেন দোরজি ভুটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জলপাইগুড়ি শহরের নেতাজিপাড়া বেসরকারি বাসস্ট্যান্ড থেকে ডুয়ার্স এবং হলদিবাড়ি রুটে বাস চলাচল করে।অন্যদিকে, কদমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে শিলিগুড়ি রুট, এছাড়া তিন নম্বর গুমটি বাসস্ট্যান্ড থেকে মূলত হলদিবাড়ি রুটের বাস চলাচল করে। ছোট-বড় সমস্ত মিলিয়ে জলপাইগুড়ি শহর থেকে দৈনিক প্রায় ২০০টির বেশি বাস চলে। টানা লকডাউনের পর গত জুন মাস থেকে মাত্র হাতেগোনা কিছু সরকারি বাস চললেও যাত্রীর অভাবে বেসরকারি বাস মালিকদের একটা বড় অংশ এখনও বাস চালাতে পারেননি।

বিমল গুহ বলেন, যাত্রীর অভাবে আমরা বাস চালাতে পারছি না সেটা আঞ্চলিক পরিবহণ অধিকর্তাকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে ঘোষণা করেছেন, গত মার্চ মাস থেকে ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসকারি বাস মালিকদের কোনওরকম কর দিতে হবে না। কিন্তু চলতি মাসের ১৮ তারিখ পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশক জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক পরিবহণ অধিকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে সড়ক কর দেওয়ার জন্য সমস্ত বাস মালিকদের ডিমান্ড নোটিশ ইশ্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন বেসরকারি বাস মালিকদের কর মকুব করার কথা ঘোষণা করলেন, সেই জায়গায় পরিবহণ দপ্তর কীভাবে জুলাই মাসে সড়ক কর দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠাল?

জানা গিয়েছে, পরিবহণ দপ্তরের ডাইরেক্টরের পাঠানো চিঠি সমস্ত জেলার আরটিও এবং এআরটিওদের পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কত গাড়ির কর বকেয়া রয়েছে তারও একটি নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকা অনুসারে, জলপাইগুড়ি জেলার ২৪৪টি বেসরকারি বাস মালিককে কর দেওয়ার জন্য ডিমান্ড নোটিশ পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া আরও ছোট বাস এবং গাড়ি রয়েছে।

বিমলবাবু বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর আমাদের সড়ক কর দিতে হয়। সেই দিক থেকে জুলাই মাসে যে কর চাওয়া হচ্ছে সেটা মে, জুন এবং জুলাই মাসের। এর মধ্যে মে মাসে লকডাউন ছিল। বাকি দুমাস এবং এখনও পর‌্যন্ত য়াত্রীর অভাবে আমরা বাস চালাতে পারিনি। এরপরেও যদি কর মেটানোর জন্যও আমাদের চাপ দেওয়া হয় তাহলে পথে নামা ছাড়া বিকল্প কোনও রাস্তা থাকবে না।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *