মাথাভাঙ্গায় সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ

মাথাভাঙ্গা: করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন পূর্ত দপ্তরের নজরদারির অভাব রয়েছে, তেমনি আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই দুই অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগিয়ে মাথাভাঙ্গায় ১৬ নম্বর রাজ্য সড়কের ধারে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। মাথাভাঙ্গা পঞ্চানন সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের দুধারের ফুটপাথের একাংশ দখল করে প্রকাশ্যে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পথচলতি সাধারণ মানুষের নজরে বিষয়টি এলেও পূর্ত ও সড়ক বিভাগ এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের গার্ডওয়াল ধসে যাওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্থানে রেইনকাট তৈরি হলেও তা সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির অ্যাপ্রোচ রোডের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারি জমি জবরদখল করে বেআইনি নির্মাণ মাথাভাঙ্গা মহকুমাজুড়ে কার্যত অবাধে ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ। সেচ বিভাগের শহর রক্ষাকারী বাঁধে বেআইনি নির্মাণ, পূর্ত বিভাগের ফুটপাথ ও সরকারি জমি, পুরসভার ফুটপাথ এমনকি আবর্জনা ফেলার ভ্যাটের জায়গাও কার্যত অবাধে জবরদখল হচ্ছে বলে অভিযোগ।

প্রশাসন দখল উচ্ছেদে কোনও পদক্ষেপ না করায় দখলকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, নির্বাচনের আগে মাথাভাঙ্গা শহর সহ গোটা মহকুমায় সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ভোটের স্বাথের্ই রাজনৈতিক দলগুলিও দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা যেমন দেখায় না পাশাপাশি প্রশাসনের নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগও নেয় দখলকারীরা। এছাড়াও দখলকারীদের পিছনে রাজনৈতিক দলগুলির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের অনীহা থাকছে বলে অভিযোগ।

তবে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পক্ষ থেকে নির্মাণকারীকে নোটিশ দিয়ে বেআইনি নির্মাণ তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। নিদের্শ না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করার নিয়ম রয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিয়ম পালন না করায় সরকারি দখল এবং বেআইনি নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না বলে অনেকের মত। মাথাভাঙ্গা পঞ্চানন সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডে দখল ও গাডর্ওয়াল ধসে যাওয়া এবং রেইনকাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পূর্ত ও সড়ক বিভাগের কোচবিহারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার জানিয়েছেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *