সহকর্মীর গুলিতে নিহত জওয়ানের দেহ ফিরল পুরুলিয়ার বাড়িতে

পুরুলিয়া: সহকর্মীর গুলিতে নিহত বিশ্বরূপ মাহাতোর মরদেহ শুক্রবার ফিরল তাঁর গ্রামের বাড়িতে। এ দিন ভোরে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে আসেন আইটিবিপির আধিকারিকরা। বুধবার ঘরের ছেলে নিহত হওয়ার খবর আসতেই শোকে বিহ্বল হয়েছিল গোটা পরিবার। আজ দেহ আসতেই বাঁধ ভাঙল। প্রথমে বিশ্বরূপের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর আদিবাড়িতে। সেখান থেকে কানালি মাঠের শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। গান স্যালুট দেওয়ার পর সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার আগে মৃতদেহে মালা দিয়ে নিহত জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানান পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার নেতা অজিত মাহাতো। আইটিবিপির আধিকারিকরা জানান, ঘটনার উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে সহকর্মীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান পাঁচ আইটিবিপি (ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ) জওয়ান। ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে কাদেনার এলাকায় শিবির ছিল তাঁদের। ছত্তীসগঢ় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে বাহিনীর কনস্টেবল মাসুদুল রহমানের সঙ্গে অন্য কয়েকজন জওয়ানের বচসা বাধে। তর্কবিতর্ক চলাকালীন আচমকাই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন মাসুদুল। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন পাঁচ জওয়ান। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই গুলিতে আত্মঘাতী হন নদিয়ার নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা মাসুদুল। যাঁরা মালদুলের রোষের বলি হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে দু’ জন এ রাজ্যের। পুরুলিয়ার বিশ্বরূপ ছাড়াও মারা গেছেন বর্ধমানের বাসিন্দা সুরজিত্‍ সরকার। ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বরূপ। পুজোর ছুটিতে শেষবার বাড়িতে এসেছিলেন। নভেম্বর মাসের তিন তারিখ ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরে যান। মঙ্গলবার রাতে শেষবার বাবা মা ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। বিশ্বরূপের এক ভাই রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *